খবরের বিস্তারিত...


আমীন আস্তে বলার ১১টি ছহীহ্ দলিল

আগস্ট 02, 2018 আক্বীদা

আমীন আস্তে বলার ১১টি ছহীহ্ দলিল:-
**************************************

১ম দলিল:-
————
হযরত ওয়াইল বিন হুজর রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ইয়ামান বাসী সাহাবি ছিলেন। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার দরবারে দ্বীন শিক্ষা করার জন্যই এসেছিলেন। তিনি ২০ দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার সহবতে ছিলেন এবং ৬০ ওয়াক্ত জোরে কিরআত ওয়ালা নামাজ পড়েছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি উনার ঠিক পিছনে তার জন্য জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন , ওয়াইল বিন হুজর রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু উনি বলেন এই ৬০ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে মাত্র ৩ ওয়াক্ত নামাজে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি জোরে “আমিন ” বলেছিলেন এবং ৫৭ ওয়াক্ত নামাজে “আমিন” আস্তে বলেছিলেন । তো আমার বুজতে বাকি ছিল না যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি আমাকে শিক্ষাদানের উদ্দেশ্যেই এমনটি করেছিলেন।
[আল আসমাউ ওয়ালকুনা : ১/১৯৭; মাজমাউজ যাওয়াইদ : ২/১১৩ ; নাসাঈ হা নং- ৯৩২, শরহুল মাওয়াহিব : ৭/১১৩ ; শরহে বুখারী দূলাবী প্রনীত]
.
উক্ত হাদীস দ্বারা সুস্পষ্ট ভাষায় প্রমানিত হল- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি সাহাবায়ে কেরামকে শুধু মাত্র শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কখনো কখনো আমীন জোরে বলতেন অন্যাথায় সর্বদা আমীন আস্তে বলতেন।

২য় নাম্বার দলিল:-
———————
ওয়াইল রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু উনার থেকে ই’লাউস সুনানে বর্ণিত “একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি যখন নামায থেকে অবসর হলেন তখন তাঁর চেহারা মোবারকের ডানপাশ ও বামপাশ দেখেছি। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি “গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালায যাল্লীন’’ পড়েছেন তখন আমীনকে টেনে একটু আওয়াজ করে পড়েছেন। আমি ধারণা করছি এই আওয়াজটা তিনি আমাদেরকে শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে করেছেন।
[ই’লাউস সুনান খ:৩, পৃ: ২৫২, আল আসমা ওয়াল কুনা ‘ ১ম খন্ড, ১৯৭ প্রিষ্ঠা] উক্ত হাদীছটি হাকেম ছহীহ বলেছেন।
.
উক্ত হাদীস দ্বারা সুস্পষ্ট ভাষায় প্রমানিত হল- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি সাহাবায়ে কেরামগনকে শুধু মাত্র শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কখনো কখনো আমীন জোরে বলতেন অন্যাথায় সর্বদা আমীন আস্তে বলতেন।

৩য় নাম্বার দলিলঃ-
———————:
নাসাঈ শরীফের রেওয়ায়েতে হযরত ওয়াইল রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু উনি বলেন – নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি যখন সুরা ফাতিহা শেষ করলেন তখন আমীন বললেন। আমি যেহেতু উনার ঠিক পিছনেই ছিলাম তাই আমি শুনতে পেলাম। [নাসাঈ ৯৩২]
.
উক্ত হাদীস দ্বারা সুস্পষ্ট ভাষায় প্রমানিত হল- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি সাহাবায়ে কেরামগনকে শুধু মাত্র শিক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে কখনো কখনো আমীন জোরে বলতেন অন্যাথায় সর্বদা আমীন আস্তে বলতেন।

চতুর্থ নাম্বার দলিলঃ-
————————
উপরিউক্ত আমিন জোরে বলার হাদিসটি সুফিয়ান ছাউরি রহমতুল্লাহি উনার থেকে বর্নিত। চলুন দেখে নিই উনার কি আমল ছিল।
ক) সুফিয়ান ছাওরি রহমতুল্লাহি উনি নিজেও আমিন নিঃশব্দে পড়তেন। [আল মুহাল্লা লি ইবনে হাযম, ২য় খন্ড, ২৯৫ প্রিষ্ঠা]
খ) ইবনে মুনযির আল আওসাত গ্রন্থে বলেছেন-
সুফিয়ান সাওরি রহমতুল্লাহি বলেন তুমি যখন সুরা ফাতিহা সমাপ্ত করবে তখন
নিঃশব্দে আমীন বলবে। [আল আওসাত ৩য় খন্ড, ২৯৫ প্রিষ্ঠা]

৫ম নাম্বার দলিলঃ-
————————
ওয়ায়েল ইবনে হুজরাত রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু উনি বলেন-
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি যখন আমাদেরকে নামায পড়ালেন। নামাযে
ﻏَﻴْﺮِ ﺍﻟْﻤَﻐْﻀُﻮﺏِ ﻋَﻠَﻴْﻬِﻢْ ﻭَﻟَﺎ ﺍﻟﻀَّﺎﻟِّﻴﻦَ ‏
বলার পর আমীন বললেন।এ সময় আওয়াজ নীচু করেছিলেন।
[মুসনাদে আহমদ-৪/৩১৬, মুসতাদরাকে হাকেম-২/২৩২, তিরমিযী -১/৫৮, দারাকুতনি ১/৩৩৪,
সুনানে বাইহাকি- ২/৫৭]
.
এই হাদিসকে হাকেম রহমতুল্লাহি সহীহ বলেছেন। যাহাবী রহমতুল্ওলাহি তার সংগে একমত হয়েছেন। ইবনে জারীর তাবারী রহমতুল্ওলাহি ইহাকে সহিহ বলেছেন। কাযী ইয়ায রহমতুল্ওলাহি এটিকে সহিহ বলেছেন।
[শারহুল উব্বী- ৬/ ৬০৮]

৬ষ্ট নাম্বার দলিলঃ-
————————
হযরত আবু হুরাইরা রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু উনার থেকে ছহীহ সনদে বর্ণিত, রাসূলে কারীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি বলেছেন, ইমাম যখন গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়া লায যাল্লীন বলেন তখন তোমরা আমীন বল। কেননা, তখন ফেরেশতাগণ আমীন বলেন এবং ইমামও আমীন বলেন। যাদের আমীন ফেরেশতাদের আমীনের সাথে মিলে যাবে তাদের পূর্বের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হবে”।
হাদীছটি ছহীহ সনদে রেওয়ায়ত করেছেন ইমাম আহমদ,ইমাম নাসাঈ ও দারমী রহমতুল্লাহি । তদরূপ রেওয়ায়ত করেছেন ইবনে হিব্বান তাঁর ছহীহ হাদীছের কিতাবে
[ হাওয়ালা: সহীহ মুমসলিম- ১/১৭৬,সহীহ বুখারী-১/১০৮,সুনানে আবু দাউদ-১/১৩৫, আছারুস সুনান-১/১৯১, যাইলে‘য়ী-১/১৯৪, ই‘লাউস সুনা-১/২৪৬]
.
নোট:-
ফিরিশতাদের আমিন আস্তেই হয়। আজ পর্যন্ত কেউ ফেরশতারদের আমীন ধ্বনি শোনেনি।তাদের আমীনের সাথে মিল তো তখন হবে যদি সময় এক হয় এবং আওয়াযও আস্তে হয়।

৭ম নাম্বার দলিলঃ-
———————
আবু ওয়ায়েল বলেন- হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহু রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এবং ইবনে মাসউদ রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু (১) ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ (২)اعوذبالله (৩) آمين –
উঁচু আওয়াজে বলতেন না। [মু’জাম তাবারানী ৯/২৬৩]

৮ম নাম্বার দলিলঃ-
———————
হযরত ওমর ফারুক রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু উনি বলেন, ইমাম চার জিনিস আস্তে বলবে- (১) ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ (২)اعوذبالله (৩) آمين (৪) اللهم ربّنالك الحمد
[কানযুল উম্মাহ ৮/২৭৪, বেনায়া ১/৬২০, মুল্লাহ ইবনে হজম ২/২০৯]

৯ নাম্বার দলিলঃ-
——————
ইব্রাহীম নাখয়ী তাবেয়ী রহমতুল্লাহি এর ফতওয়া হলো- পাঁচটি জিনিস আস্তে বলা হবে, (১) ﺑِﺴْﻢِ ﺍﻟﻠَّﻪِ (২)اعوذبالله (৩) آمين (৪) اللهم ربّنالك الحمد (৫) سبحان الله
[মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক ২/৮৭, মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ২/৫৩৬]

১০ নাম্বার দলিলঃ-
————————
জলীলুল কদর তাবে‘ঈ হাসান বসরী রহমতুল্লাহি উনার থেকে হাদীছ বর্ণিত আছে, ‘‘একদা সামুরা বিন জুনদুব রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু এবং ইমরান বিন হোসাইন রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু উনাদের মধ্যে একটি হাদীছ আলোচনা হয়। তা হলো, সামুরা বিন জুনদুব রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেছেন, তিনি রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নামায থেকে দুটি ‘সেকতা’ তথা চুপ থাকা সংরক্ষণ করেছেন, প্রথম তাকবীরের পর রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। আর যখন গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালায যাল্লীন পড়তেন তখন কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। ইহা বলার পর ইমরান বিন হোসাইন উনার কথাটি গ্রহণ করতে আপত্তি জানিয়েছেন। অতঃপর উভয়জন মিলে জলীলুল কদর ছাহাবী উবাই বিন কা‘আব রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু উনার নিকট ব্যাপারটি লিখে পাঠালেন। প্রতি উত্তরে উবাই বিন কা‘আব রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু লিখেছেন, সামুরা বিন জুনদুব রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নামায থেকে চুপ থাকাবিষয়ক যা সংরক্ষণ করেছেন সেটাই হক ও সত্য।
.
সাঈদ বলেন, আমরা কাতাদা রহমতুল্লাহি কে জিজ্ঞাসা করলাম দুটি সাকতা কোথায় ছিল? তিনি বল্লেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি যখন কিরয়াত পাঠ আরম্ভ করতেন এবং যখন কিরয়াত পাঠ সমাপ্ত করতেন। এর পর কাতাদা বলেছেন, যখন ওয়ালায যোয়াল্লিন পাঠ শেষ করতেন। তিনি আরো বলেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার পছন্দ ছিল যখন কিরাত পাঠ সমাপ্ত করতেন তখন শ্বাস স্বাভাবিক হওয়ার আগ পর্যন্ত নিরব থাকতেন।
[ (ই’লাউস সুনান, খ:২,পৃ:২৪৮) ] + [তিরমিযি( ২৫১) ; আবু দাউদ (৭৮০);মুসনাদে আহমাদ (৫ খন্ড, প্রিষ্ঠা ২৩)]
.
ইমাম আবুদাউদসহ অন্যান্য মুহাদ্দিছীনে কেরাম হাদীছটি ছহীহ সনদে নকল করেছেন।
এ হাদিস থেকে বুজা যায় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি নামাজে দু সময় নিরব থাকতেন। প্রথম নিরবতা তাকবীরে তাহরীমার সময় তখন তিনি সানা পড়তেন আর ২য় নিরবতা সুরা ফাতিহা শেষ করার পর। এ সময় তিনি আমিন বলতেন। বুজা গেল আমীন তিনি নি:শব্দে বলতেন।
.
হাদিসটিতে কাতাদা প্রথমত : বলেছিলেন ২য় নিরবতা হতো কেরাত শেষ করার পর। পরে ব্যাখ্যা করে বুজিয়ে দেন যে, কেরাত শেষ করা মানে সুরা ফাতেহার কেরাত শেষ করা। আর সম্পূর্ণ কেরাত শেষ করার পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি এতটুকু নিরব থাকতেন যাতে শ্বাস স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। এটা সামান্য নিরবতা হতো। আবু দাঊদ শরীফে (৭৭৯) কাতাদা রহমতুল্লাহি উনার হতে আবু সাঈদ এর সুত্রে ইয়াযীদ রহমতুল্লাহি এর বরননায় স্পস্ট উল্লেখ আছে ,:-
“একটি সাকতা হতো তাকবীরে তাহরীমার পর, আরেটি সাকতা হতো ওলায যোয়াল্লিন বলার পর।”
দারাকুতনি রহমতুল্লাহি ও ইবনে উলাইয়া থেকে, তিনি ইউনুস ইবনে উবায়দার সুত্রে হাসান বসরী থেকে অনুরুপ বরননা করেছেন।
[( মুসনাদে আহমাদ ৫/২৩(২০৫৩০)]
.
ইবনে হিব্বান তার সহিহ গ্রন্থে এ হাদিসের উপর শিরোনাম দিয়েছেন :-
” সুরা ফাতিহা শেষ করার পর ২য় বার নিরব থাকা মুস্তাহাব”
.
আল্লামা ইবনুল কাইয়্যুম রহমতুল্লাহি উনার তাহকিক ও গবেষনার উপর লা মাযহাবীদেরও বেশ আস্থা আছে, তিনি তাহার যাদুল মায়াদ গ্রন্থে লিখেছেন-
” সামুরা রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু, উবাইয়্যা ইবনে কা’ব রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ও ইমরান ইবনে হোসাইন রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু উনাদের হতে সহিহ সনদে দুই সাকতার হাদিসটি বরনিত হয়েছে।
এই হাদিস আবু হাতিম কে [ইবনে হিব্বান ] হিসেবে তাহার “সহিহ ” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আর সামুরা রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু হলেন ইবনে জুনদুব। এ থেকে স্পষ্ট যে সামুরা রাধিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু ও দুই সাকতার হাদিসটি বরননা কারীদের একজন। তিনি তাহার হাদিসে বলেছেন, আমি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনার নিকট হতে দুটি সাকতার কথা স্বরন রেখেছি। একটি হলো তিনি যখন “তাকবির “দিতেন আর আরেকটি হলো তিনি যখন “ওয়ালায যোয়াল্লিন ” শেষ করতেন।
কোন কোন বরননায় হাদিসটি এভাবে উদ্ধৃত হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুজুর পাক ছল্রলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উনি যখন কিরাত শেষ করতেন তখন নিরব থাকতেন। এই বরননাটি অস্পষ্ট। প্রথম বরননাটি ব্যাখ্যা সম্বলিত এবং সুস্পষ্ট। ( যাদুল মায়াদ,, ১ম খন্ড, ৭৯ প্রিষ্ঠা)

অবশেষে পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ কোরআন শরীফ উনার থেকে ১১ নাম্বার দলিলঃ-
—————————————————————————————
আতা ইবনে রাবাহ বলেন- ﺁﻣﻴﻦ ﺩﻋﺎﺀ
আমীন হচ্ছে দুআ। [সহীহ বুখারী ১/১০৭]
আর আমীন অর্থ হল- ইয়া আল্লাহ আমার দুআ কবুল করুন!।
[লুগাতুল হাদীসের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ মাজমাউল বিহারে-১/২০৫, তাফসীরে খাযেন-২/৩০]
.
তা ছাড়া সূরা ইউনুসের ৮৮ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা হযরত মুসা আলাইহিস সালাম ও হযরত হারুন আলাইহিস উনাদের দু’আ বর্ণনা দিয়েছেন। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনি যখন দোয়া করতেন তখন হারুন আলাইহিস সালাম উনি আমীম আমীম বলতেন।
[তাসীরে দুররে মানসূর ৩/৩১৫, তাফসীরে ইবনে কাসীর ১/৩১, তাফসীরে খাযেন ২/৩০৬]
আর হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার দোয়া এবং হযরত হারুন আলাইহিস সালাম উনার আমীন, উভয় টিকে আল্লাহ তায়ালা সূরা ইউনুসের ৮৯ নং আয়াতে সুস্পষ্ট ভাষায় “দোয়া” বলেছেন। যা নিম্নে উল্লেখ করা হল-
ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺪْ ﺃُﺟِﻴﺒَﺖ ﺩَّﻋْﻮَﺗُﻜُﻤَﺎ ﻓَﺎﺳْﺘَﻘِﻴﻤَﺎ ﻭَﻻَ ﺗَﺘَّﺒِﻌَﺂﻥِّ ﺳَﺒِﻴﻞَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻻَ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ
মহান আল্লাহপাক উনি বললেন, য়াপনাদের দোয়া মঞ্জুর হয়েছে। অতএব আপনারা দুজন অটল থাকেন এবং তাদের পথে চলিবেন না যারা অজ্ঞ।
[সূরা ইউনুস ৮৯ নং আয়াত]
:
সুতরাং প্রমানিত হলো যে আমীন একটি “দোয়া” আর দোয়া নীচু স্বুরে বলতে হয়। যেমন:- আল্লাহ তায়ালা বলেন-
ﺍﺩْﻋُﻮﺍْ ﺭَﺑَّﻜُﻢْ ﺗَﻀَﺮُّﻋًﺎ ﻭَﺧُﻔْﻴَﺔً ﺇِﻧَّﻪُ ﻻَ ﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻤُﻌْﺘَﺪِﻳﻦ
নীচুস্বুরে ব্যাকুল হৃদয়ে তোমার প্রতিপালকের নিকট দু’আ করো।
[সূরা আল আ’রাফ ৫৫ নং আয়াত]

===========================
উপরে উল্লেখিত ১১টি দলিল দ্বারা সুস্পষ্ট ভাষায় প্রমানিত হল- আমিন আস্তে বলা সুন্নত কিন্তু যদি কেউ জোরে বলে তাহলে জায়েজ আছে কোন সমস্যা নেই।
অতএব এখন আপনার ব্যাপার, সুন্নত পালন করবেন নাকি জায়েজ পালন করবেন.???

Comments

comments

Related Post