খবরের বিস্তারিত...


সুন্নিয়ত প্রতিষ্ঠায় হযরতুল আল্লামা আবু নসর সৈয়দ আবেদ শাহ্ মোজাদ্দেদী আল্ মাদানী (রঃ) এর অবদান

তিনি বাংলার জমীনে সুন্নীয়াত প্রতিষ্ঠা করেছেন,তিনি তার জীবদ্দশায় এক মুহূর্তের জন্য নবিজীর দুশমনদের সাথে আপোষ করেননি। ধন,সম্পদ,আত্নীয়,স্বজন সকল কিছুর মায়া ত্যাগ করে সবসময় সুন্নীয়াত প্রতিষ্ঠার স্বার্থে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়ে গেছেন।

যখন তিনি কোন মুসীবতে পড়তেন তার সঙ্গীরা তাকে প্রশ্ন করতেন-হুজুর এখন কী করবো হাজার হাজার ওহাবীরা আমাদেরকে হামলা করার জন্য এগিয়ে আসছে এখন আমরা কী করবো?? তিনি বলতেন ভয় করোনা বাতেলারা আমি আবেদ শাহ্‌ এর কিচ্ছু করতে পারবেনা আমার সাথে আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম আছে। 


তিনি ১২৮৪ হিজরীতে,,শাবান মাসে পবিত্র শবে বরাতের সুবেহ সাদিকের শুভক্ষনে মদীনা শরীফের জান্নাতুল বাকী মহল্লায় জন্মগ্রহন করেন।
তিনি হলেন হযরত মোজাদ্দেদে আল-ফেসানী (রাঃ)-এর নবম বংশধর।তিনি পিতৃকুল থেকে আমিরুল মোমেনীন হযরত ওমর ফারুক (রাঃ) খানদানের লোক এবং মাতৃকূল থেকে হযরত ইমাম হাসান (রাঃ) এর বংশধর তিনি ২৮ বছর পর্যন্ত মদীনা শরীফে দ্বীনি শিক্ষা অর্জন করেন। প্রিয় নবী(সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম এর বাতেনী নির্দেশে এবং ভারতের রামপুর ষ্টেটের নবাব কলবে আলী খাঁর অনুরোধে ইসলাম প্রচারার্থে তার চাচা মাওলানা এরশাদ হুসাইন এবং মোজাদ্দেদ সাহেব সহ ভারতের রামপুরে আগমন করেন। ভারতে তিনি ৫৭ বছর পর্যন্ত ইলমে হাদীস,ইলমে তাফসীর
এবং ফিকাহ্ এর অধ্যাপনায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োজিত ছিলেন। সংগে সংগে তিনি ইসলামের ভিতরে মতানৈক্য সৃষ্টিকারী বিভিন্ন বাতিল
আকীদা সমূহের বিরুদ্ধে বহাস ও মোনাজেরার অবিরাম জিহাদে নিয়োজিত ছিলেন।


তিনি সেই ব্যাক্তি যার সিয়া সিত্তাহের হাদীসের কিতাব সম্পূর্ণ মুখস্ত ছিলো যা এই জামানায় দ্বিতীয় কাউকে পাওয়া যাবেনা তিনি সেই ব্যাক্তি যাকে বাহারুল উলুম বলা হত  ১৩৩০হিঃ তে পাঞ্জাবে খৃষ্টান পাদ্রীদের সহিত তাঁর প্রথম বাহাস হয়। ঐ বাহাসে পাদ্রীগণ মুশরিক সাব্যস্ত হন এবং পরাজয়
বরণ করেন, তিনি আম জলসায় শিয়াদিগকে বাহাসের চ্যালেঞ্জ প্রদান করেন। উক্ত জলাসায় তিনি শিয়াদগকে ইমাম হোসেনের হত্যাকারী ও বে-দ্বীন সাবেত করেন এবং তাদের কে মৃত্যু পর্যন্ত বাহাসের চ্যালেঞ্জ প্রদান করেন। তিনি আম জলসায় (পূর্ব পাঞ্জাব) লা মাজহাবীদের সাথে বাহাস করেন।
তাদের পক্ষে ছিলেন মাওলানা সানাউল্লাহ আমরাসসারী।তিনি আম জলসায় তাহাদিগকে কোরআন ও হাদীস দ্বারা বে-দ্বীন সাবেত করতে থাকেন কিন্তু আজ অবধি কোন উত্তর আসেনি ১৩৪৬হিঃ তে ইউ.পি শাহ জাহানপুরে দেওবন্দীদের প্রধান মুনাযির মৌলভী আব্দুল ওফাকে মুনাযেরের খোলা ময়দানে পরাস্থ করেন। অপমাণিত ও লাঞ্চিত হয়ে মৌলভী সাহেব প্রশ্রাবের বাহানা দিয়া মুনাযিরের ময়দান হইতে পলায়ন করেন।

 ১৩৪৭ হিঃতে বাশঁ বেরেলীতে তিনি দেওবন্দী আলেমগণকে চ্যালেঞ্জ প্রধান করেন। মুনাযিয়ায় উপস্থিত ছিলেন মৌলভী আব্দুল হোসাইন আহমদ, মৌলভী তৈয়ত, দেওবন্দ মাদ্রাসার মুহতামিম মৌলভী আব্দুস শাকুর কাকুরভী। ইমামে রাব্বানী সেখানে উপস্থিত হলে দেওবন্দী ওহাবী গোষ্টীর হাজার হাজার আলেম পুলিশের সহায়তায় সেখান হতে পলায়ন করেন। এই পরাজয়ের আঘাত নিদারুনভাবে লাগল ঈমারাতুল ওলুমের প্রধান মুদাররিস মৌলভী ইয়াসিনের অন্তরে।


ইহা ছিল সুন্নীদের জন্য এক বিরাট সাফল্য। তারা এক বিরাট জলসার আয়োজন করে জামেয়াই রেজভীয়াতে। তাহাতে অংশগ্রহণ করেন জামেয়াই রেজভিয়ার সদরুল আফাজেল, ওস্তাদুল ওলামা সৈয়দ মুহাম্মদ কাসুয়াসুরী।মালেখুল ওলামা শাইখুল হাদীস আল্লামা জাফরুদ্দীন বিহারী আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বহু প্রখ্যাত আলোমগণ। ইমামে অাহলে সুন্নাত আল হযরত বেরলুভীর জ্যেষ্ঠ পুত্র ও খলীফা হযরত হজ্জাতুল ইসলাম অাল্লামা কাদের রেজা খান সাহেব তাকে আবু  নসর (সাহায্যকারী পিতা) দান করেন। ১৩৪৮ হিজরীতে দিল্লীর ফতেহপুর জামে মসজিদে তাবলিগ জামাতের
প্রতিষ্ঠাতা ইলিয়াস মেওয়াতী মিলাদ কিয়াম বহসে অনূন্য দশ হাজার লোকের এক জলসায় তার নিকট পরাজয় বরণ করেন।


ইলিয়াস   মিলাদ ও কেয়াম কে হারাম ও শিরক বলে দাবি করে। অথচ মাকরুহ পর্যন্ত সাবেত করতে অসমর্থ হন। তাকে তওবা করতে বললে সে কর্ণপাত করে না। ফলে চতুর্দিকে জুতা বৃষ্টির মত তার উপর পড়তে থাকে এবং সে পলায়ন করে। অতপর ইলিয়াস তাকে দিল্লিতে তাবলিগ জামাতে শামিল হবার দাওয়াত দেন। তিনি তার সামনে “ছয় উছুল” কোরআন ও হাদীস দ্বারা সাবেত করতে বলেন। ইলিয়াস তাতে অক্ষম হয়। তিনি বলেন, “ইলিয়াস তুমি ছয় উছুলের একটি নতুন দ্বীন বানিয়েছো”। ইহা করে তুমি যে ইসলাম হতে খারিজ হয়ে গিয়েছ তাতে কোন সন্দেহ নেই। মুসলমানগণ কখনও আল্লাহর পাঁচ উছুল বিশিষ্ট দ্বীন ছাড়িবেনা এবং তোমার ছয় উছুলের দ্বীন গ্রহণ করবেনা। হ্যাঁ তবে মুনাফেক এবং বেঈমান দল তোমার
দ্বীনে দাখেল হতে পারে। আমি তোমাকে কেয়ামত পর্যন্ত সময় দিলাম। তুমি যখন এবং যেখানে চাও পাঁচ উছুলের হক দ্বীনের মোকাবেলায় ছয় উছুলের দ্বীন সাবেত কর, তোমার বিদআত চিল্লা সাবেত কর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ছয় শত বছর পরে প্রবর্তিত মিলাদ ও কেয়ামকে তোমরা বিদয়াত, হারাম, ও শিরক বলে থাক। তাহা হলে প্রায় সাড়ে তেরশ বছর পর তুমি যে চিল্লা জারী করেছো, তাহা কেন বেদয়াত ও হারাম হবে না? তাছাড়া মনগড়া সাওয়াবের মাসয়ালা বলে কেন জাহান্নামের হকদার হবে? উত্তর দাও। তোমরা কি নবী পাক (দঃ) এর হাদীছ ইয়াদ নাই বিদয়াতি চিল্লার রীতি চালু করিয়া যে দলিলহীন মনগড়া মাসালা বলবে তার ঠিকানা জাহান্নাম।


প্রত্যেকটি বিদআতই গুমরাহী এবং প্রত্যেক গুমরাহীর পথই দোযখে নিয়া পৌছায়।এই হাদীস অনুসারে তুমি কেন জাহান্নামী হবে না? ” মৃত্যুণ পর্যন্ত কোন উত্তর দিতে পারে নাই। শুধু তা নহে, তাবলিগী জামাতের আমীর গোষ্ঠীর কোন আমীরই আজ পর্যন্ত ঐ চ্যালেঞ্জের উত্তর দিতে পারে নাই। ইনশাআল্লাহ কেয়ামত পর্যন্ত উহার উত্তর কেহ দিতে পারবে না। ১৩৪৯ হিজরীতে তিনি দিল্লীর আমিনিয়া মাদ্রাসার প্রধান মুদারেসিন কেফায়েতুল্লাকে বাহাসের চ্যালেঞ্জ প্রদান করেন। তিনি তার বাড়ীর পাশেই জলসা করিয়া তাঁহাকে চ্যালেঞ্জ অবতরণ করিতে আহবান জানান এবং তাহার গুরুজণদের ঈমান সাবেত করিবার জন্য বলেন। তিনি অবমাননা ও লাঞ্চনার ভয়ে ঘর হতে বের হন নাই। যখন হিন্দুস্তান দুইভাগ হইয়া গেলো তখন ভারতের
মুসলমানদের ওপর হিন্দুদের নিপীড়ন ও নির্যাতনের কোন সীমা- পরিসীমা রহিলনা তাহারা মসজিদসমূহ ভাঙ্গিতে শুরু করিল। মুসলমান রমনীদিগকে নির্যাতন করিতে লাগিল। মুসলমানদের হত্যা করা ও তাদের ধন-সম্পদ লুট তরাজ করা হিন্দু শিখদের পেশায় পরিণত হইল। রামপুর এ সমস্ত জুলুম ও
অত্যাচার ব্যাপকভাবে বিস্তৃতি লাভ করিল। যত আলেম ও পীর ছিলেন সকলেই ভয়ে আতংকগ্রস্থ। এই চরম মুহূর্তে ইমামে রাব্বানী হিন্দুদের বিরুদ্ধে জেহাদ এর ফতওয়া দেন। তিনশত তেরজন মুজাহিরের একটি বাহিনী গঠন করিয়া তিনি জেহাদের ময়দানে নামাইয়া দেন। মাগরিব হইতে ফযর পর্যন্ত হিন্দুদের বিরুদ্ধে ভীষন জেহাদ চলে। রামপুর স্টেটের সরকার সংবাদ পাইয়া ইমামে রাব্বানী কে গ্রেফতার ও জেলে প্রেরন করেন। তাঁহাকে ছয়
মাসের কারাদন্ড দেওয়া হয়। ইমামে রাব্বানী হাইকোর্টে আপিল করেন। দুইমাস পরে তিনি কারাগার হইতে মুক্তিলাভ করেন। অতপর তিনি রামপুর সরকার স্টেটের নোয়াব রেজা আলী খানের বিরুদ্ধে জেহাদের হুকুম দেন। ফলে তিনদিন পর্যন্ত রামপুরে কোন সরকার ছিল না। বাধ্য হইয়া সরকার
দিল্লী হইতে শিখ সৈন্য আনয়ন করিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম আবার তাকে নির্দেশ দিলেন বাংলার জমীনে হিজরত করতে তিনি সেখান থেকে ৫৭ বছরের দীর্ঘ বসবাসের মায়া ত্যাগ করে সমস্ত ধন দৌলত ছেড়ে দিয়ে বাংলার জমীনে(তৎকালীন-পূর্ব পাকিস্তান) একা হিজরত করে চলে আসেন সাথে কোন বাহিনী বা মুরীদান নিয়ে আসেননি শুধু ছিলেন আল্লাহ এবং তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহী ওয়া সাল্লাম।  


তিনি বাংলার জমীনে এসে থেমে থাকেননী আবার শুরু করে দিলেন সুন্নীয়াত প্রতিষ্টার সংগ্রাম ১৯৫৩ সালে কুমিল্লা জেলাধীন কচুয়া থানার ক্বারী ইব্রাহীমের পুত্র কুমিল্লা মেজিস্ট্রেটের কোর্টে তার  নামে পাঁচশত ধারায় মোকাদ্দমা করে।কারন তিনি দেওবন্দি আলেমদের কে বেঈমান বলেন।
অত:পর মেজিস্ট্রেট সাহেব তাহার সামনে উভয়ের পক্ষ হইতে ওলামাগণকে কোরআন হাদীস দ্বারা বাহাস করে উভয়ের সত্যতা প্রমানের সুযোগ দেন।
কথা থাকে তাকে  দোষী সাব্যস্ত হইলে তাহাকে সাজা দেয়া হবে।  প্রায় দশ হাজার লোকের সমাবেশে সাত দিন বাহাস হয় বাইশটি মাসালার উপর।
উক্ত বহসে কয়েকশত ওহাবী ওলামা উপস্থিত ছিলেন।কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে তারা প্রত্যেক দিন প্রত্যেকটা মাসলার উপর তাহাদের সত্যতা প্রমাণে অপরাগ হয় এবং চরমভাবে অপমানিত হয়। 

ওহাবীদের পক্ষে আলেম ছিলেন মাওলানা তাজুল ইসলাম ব্রাহ্মমনবাড়ীয়া, মাওলানা আ: ওহাব মোহ- তামিম বড় কাটার মাদ্রাসা, ঢাকা।মাওলানা কোরবান অালী। প্রত্যেককে তাহাদের বুজুর্গদের উপর যে কুফরী ফতোয়া দেয়া হয়েছে তা খন্ডাইতে পারেনি। তাহাদের বুজুর্গদের মধ্যে মৌ: কাশেম নানুতুবী, মৌ রশীদ আহমেদ গাঙ্গুহী, খলীল আহমেদ আমবেটবী, মৌ: আশরাফ আলী থানবী।


তিনি তাহাদের লিখিত বই মুস্তকের দ্বারা তাদেরকেই কোরআন, হাদীছ, ইজমা, কেয়াস এর ভিত্তিতে জবরদস্ত বেঈমান সাব্যস্ত করেেছন।
ওহাবীদের দাবী ছিল আল্লাহর নবী গায়েব জানেন না। যদি কেহ এই বিশ্বাস রাখে যে নবী গায়েব জানেন তবে সে মুশরিক। (নাউযুবিল্লাহ) তিনি প্রত্যেকটা দলীল  দ্বারা শক্তভাবে প্রমান করেছেন যে, নবী পাক (দ:) এলমে গায়েব ছিল এবং তাহা আল্লাহ পাক তাহাকে জানাইয়া দিয়েছেন। পরিশেষে মেজিস্ট্রেট সাহেব তার পক্ষে রায় দিয়ে তাদের দেয়া মামলা ডিসমিস করিয়া দেন।


১৯৭০ সালে যখন তিনি পবিত্র হজ্বের জন্য মক্কা শরীফে গমন করলেন বাংলাদেশী ওহাবীরা সৌদী ওহাবী হুকুমাতের নিকট তার বিরুদ্ধে নালিশ করেন হজ্বের পরে তিনি যখন মাকামে ইব্রাহীমের নিকট বসেছিলেন তখনই সৌদী ওহাবী প্রায় দশ বারোজন আলেম তার সামনে সম্মুখীন তারা বলতে থাকেন নবী ওলীর ওছীলা ধরা শিরক,নবীকে হায়াতুন্নবী মানা শিরক,নবীর ইলমে গায়েব আছে এটা যে মানবে সে মুশরিক তিনি সাথে সাথে ওহাবীদের জবাবে বলেন নবী ওলির ওছীলা ধরা জায়েজ অতঃপর বহাস শুরু আরবী ভাষায় প্রায় একঘন্টা বহাস হয় ওহাবী আলেমগন পরাস্থ হোন সেসময় সৌদী পুলিশ বলেন – “ হে শেখ হেরেম শরীফে ঝগড়া করবেন না” জবাবে তিনি বলেন-ঃ “ আমি হেরেম শরীফে ঝগড়া করিনি বরং সত্য প্রকাশ করেছি।এটা ইবাদতের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত”


১৯৭৫ সালের ২৩শে এপ্রিল তিনি সিলেটের হবিগঞ্জে এক সুন্নী সম্মেলনে যোগ দেন সে সম্মেলনে তিনি নিজেই সভাপতি ছিলেন।সেখানে প্রায় একশত ওহাবী মাওলানা উপস্থিত হয়।মাওলানা আব্দুল লতিফ ফুলতলী ওয়াজ আরম্ভ করলে ওহাবী মৌলভী তাকে তাবলীগ সম্পর্কে অভিমত জানতে চায় ফুলতলীর পীর সাহেব তাবলীগ সম্বন্ধে কোন বক্তব্য রাখলেন না শুধু বললেন- আমি তাবলীগ পছন্দ করিনা।আমি কাহাকেও কাফের টাফের বলিনা।” তারপর তিনি মাইক নিলেন সমস্ত ওহাবীদের কাফের সাব্যস্ত করলেন তাদেরেই লিখিত কিতাব দিয়ে। তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা ইলিয়াসকে তার লিখিত কিতাব #মালফুজাতএর মাধ্যমে ভণ্ড নবী দাবীদার এবং তার ৬ উছুলকে মনগড়া বলে তাকে কাফের ফতুয়া দিলেন
তিনি সেই ব্যাক্তি যাকে তিনবার বিষ খায়িয়েছে বাতেলারা সুন্নীয়াত প্রচারে বাধা দেয়ার জন্য
তিনি সেই ব্যাক্তি যাকে জামাতে ইসলামের লোকেরা বার বার কারাগারে প্রেরণ করেছেন তাদের ভন্ডামী এবং ইসলামের লেবাশ দিয়ে ব্যাবসার বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য
যেসময় পীর এর নামে ব্যাবসা শুরু হয়ে গিয়েছে পীরের ছেলে পীর কুরআন হাদীস ইজমা কিয়াসের বিরুদ্ধে গিয়ে বেদতী বায়াত চালু হয়ে গেছে ঠিক সেসময় তিনি মানুষকে সঠিক পীর চেনার জন্য একটি কিতাব লেখেছেন- “ইসলায়ে মাশায়েখ অর্থাৎ- পীর সাহেবদের সংশোধনী”
তিনি সেই ব্যাক্তি যিনি বাংলাদেশের অন্যান্য পীরদের মত তার সব ছেলেদেরকে পীরগিড়ীর সার্টিফিকেট দিয়ে যাননি শুধুমাত্র যিনি যোগ্য তাকেই একমাত্র খেলাফত দান করেছেন তার ঐরশজাত সন্তানদের মধ্যে যা বাংলার জমীনে বিড়ল দৃষ্টান্ত
তিনি শুধু সুফিইজম নিয়েই পরে থাকেননী বাংলাদেশের ইতিহাসে বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের একক রাজনৈতিক সংগঠন ইসলামী ছাত্রসেনার প্রতিষ্টা হয় তিনি প্রধান অতিথির আসন অলংকিত করেছিলেন।


বাংলাদেশের সুন্নী সকল বিখ্যাত ওলামায়কেরামগণ তার ছাত্র ছিলেন এর মধ্যে অন্যতম- আল্লামা নুরুল ইসলাম হাশেমী,আল্লামা  ওছিয়ুর রহমান, আল্লামা ওবাইদুল হক নঈমী,আল্লামা আব্দুল বারি জিহাদি,আল্লামা আবু সুফিয়ান আল কাদরী,আল্লামা ওহীদুর রহমান জেহাদি তারা তার কাছ থেকে কুরাঅান হাদিস ইজমা কিয়াসের দরস নিতেন সবসময় তার সান্নিধ্যে থাকার চেষ্টা করতেন। 


কিন্তু শত আঘাত সহ্য করেও তিনি বাতেলের বিরুদ্ধে হজরতে ওমর ফারুক রাঃ এর ন্যায় সর্বদা সোচ্চার আর সাহসী ছিলেন তিনি হিন্দুস্থানে সত্তর বছর অধ্যাপনা কাজে নিযুক্ত থাকেন।উল্লেখ্য যে সিহা সিত্তাহ হাদীস গ্রন্থ বা হাদীসের ৬টি গ্রন্থ তার মুখস্থ ছিল। তন্মধ্যে জামায়াত নিয়মে পরিচালিত
মাদ্রাসার অধ্যাপনা করেন দশ বছর ও বাকী ষাট বছর বিভিন্ন মাদ্রসার সিহা সিত্তা হাদীস ও তাফসির অধ্যাপনারকাজে নিযুক্ত থাকেন ।

মাদ্রাসাগুলোর নাম নিম্ন দেওয়া হলোঃ


১) ইসলামিয়া মাদ্রাসা, ঢাবিল,
জেলা বরোদা, কাঠিহার।(ইন্ডিয়া)
২) ইসলামিয়া মাদ্রসা, বোম্বে।(ইন্ডিয়া)
৩) বাহরুল উলুম মাদ্রাসা, শাহজাহানপুর,
ইউপি।(ইন্ডিয়া)
৪) মাদ্রসায়ে আনজুমানে নোমানিয়া,
লাহোর।(পাকিস্থান)
৫) মাদ্রাসায়ে রেজভিয়া, বেরেলী, ইউপি।(ইন্ডিয়া)
৬) মাদ্রসায় নোমানিয়া, দিল্লী। (ইন্ডিয়া)
৭) মাদ্রাসা-ই-মানযা-উল-উলুম, রামপুর।(ইন্ডিয়া)
৮) জামিয়া আহম্মদিয়া সুন্নিয়া আলীয়া মাদ্রাসা। (চিটাগং, বাংলাদেশ)
৯) মাদ্রাসাতুস সাকালাইন- (হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর বাংলাদেশ)


ঐ সমস্ত মাদ্রাসায় তিনি মুফতি এবং ফাতওয়ার দায়িত্ব পালন করতেন।বাংলাদেশ- এবং হিন্দুস্থানে কমপক্ষে বিশ হাজার আলেম তাহার নিকট সিহা সিত্তা বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থ পাঠ করেন। তিনি কোরআন-হাদীস,ইজমা-কিয়াস ও সলফে- সালেহীন হতে স্বীকৃত #বায়াতে‘রাসূল-এর মৃত সুন্নাতকে জিন্দা করেন। এর ফলে সকল বেদাতী বায়াতের মূলোচ্ছেদ ঘটলো। তার ভুমিকা হলো #দ্বীনের_তাজদীদের ভুমিকা,তাই তিনি হলেন পঞ্চদশ শতাব্দীর
মোজাদ্দেদ । তিনি বাংলাদেশ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত প্রতিষ্ঠা করেন যা বাংলাদেশে একমাত্র সুন্নীদের নিবন্ধিত দল তিনি আমৃত্যু এই সংগঠনের সভাপতি ছিলেন তিনি সুন্নাতে মুতাওয়ারিছা বায়াতে রাসূলকে এদেশে পুনরায় পুনরুজ্জীবিত করে লাখ লাখ মুসলমানগনকে সত্যের সন্ধান দিয়ে বায়া’ত রাসূলে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।তার জীবনে অসংখ্য কেরামত প্রকাশিত হয়েছে। যিনি ইন্তেকালের পূর্বক্ষনের সবাইকে বলেন,”আমাকে আল্লাহর নবী (দঃ) এসেছেন নিয়ে যাওয়ার জন্য,তোমরা সবাই নবীর প্রতি সালাতু সালাম পড়।” এর পরক্ষনেই তিনি ইহজগত ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)।


অবশেষে মহান যুগশ্রেষ্ঠ অলী ও আশেকে রাসূল ১২৬ বছর বয়সে ৮ই অক্টোবর ১৯৮৮ইং ২৩শে আশ্বিন ২৫শে সফর শনিবার ইন্তেকাল করেন।
তিনি নিজে তার তুলনা তিনি তার উপমা তিনি আর কেউ নন বাংলার জমীনে সুন্নীয়াতের শিরোমনি নামে পরিচিতো আওলাদে রাসূল,ইমামে রাব্বানী,,মোজাদ্দেদে জামান,,মুফতিয়ে আজম,,শায়খুল ইসলাম,,কাইউমে জামান হযরতুল আল্লামা আবু নসর সৈয়দ আবেদ শাহ্ মোজাদ্দেনী আল্
মাদানী (রঃ) । 

Comments

comments

Related Post