খবরের বিস্তারিত...


জেনে নিন — আল্লামা জালাল উদ্দিন রুমির কয়েকটি জ্ঞানগর্ভ উক্তি

আগস্ট 13, 2018 আক্বীদা

জালাল উদ্দিন রুমির কয়েকটি জ্ঞানগর্ভ উক্তি
—————————————————————–
১. আল্লাহ তোমাকে একটা অনুভূতি থেকে আরেকটা অনুভূতির দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং এই বিপরীতধর্মী দুই অনুভূতি দিয়ে তোমাকে কিছু শেখাতে চান, যেন তুমি তোমার দু’টো ডানা দিয়ে উড়তে পারো, একটি দিয়ে নয়!
.
২. তোমার দু’টো চোখকেই বন্ধ করে দাও
যদি অন্য চোখটি দিয়ে দেখতে চাও।
.
৩. আমি আমার দুই চোখকে “বিরত” রেখেছি । এই পৃথিবী আর আখিরাতের অভিলাষ থেকে যা আমি মুহাম্মদ থেকে শিখেছি।
.
৪. আমি নীরব হলাম। হে আত্মা, এবার তুমি কথা বলো!
.
৫. যদি আলো থাকে তোমার হৃদয়ে
তাহলে ঘরে ফেরার পথ তুমি অবশ্যই খুঁজে পাবে।
.
৬. যখন কেউ তোমার সমালোচনা করে অথবা তোমার বিরোধিতা করে, তখন তোমার হৃদয়ে ছোট পিঁপড়ার সমান একটুখানি ঘৃণা আর শত্রুতার জন্ম হয়। তুমি যদি সাথে সাথে সেটাকে মেরে না ফেলো তবে সেটা একটা সাপে পরিণত হতে পারে, এমনকি আরো বড় দানবেও।
.
৭. শোক প্রকাশ হতে পারে সমবেদনার বাগান। যদি সবকিছুতে নিজের হৃদয়টাকে উদার রাখতে পারেন, বেদনা আপনার শ্রেষ্ঠ বন্ধু হতে পারে।
.
৮. দুঃখ করোনা, যা কিছু হারিয়েছো তার জন্য
তুমি তা আবার ফিরে পাবে যা কিছু হারিয়েছো আরেকভাবে আরেক রুপে।
.
৯. মোমবাতি হওয়া সহজ কোন কাজ নয়। আলো দেওয়ার জন্য প্রথম নিজেকেই পুড়তে হয়।
.
১০. এই জগতটা হল একটা স্বপ্ন, শুধু একজন ঘুমন্ত ব্যক্তিই একে বাস্তব মনে করে। এরপর ভোরের মত করে মৃত্যু অাসে; অার যা কিছুকে দুঃখ কষ্ট ভাবতে- তা নিয়ে হাসতে হাসতে তুমি জেগে ওঠো।
.
১১. যখনই মনে কোনো অভিযোগ আসবে —
বরং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো!
.
১২. প্রত্যেক ব্যক্তিকে একটা নিদির্ষ্ট কাজ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং সেই কাজটি তার হৃদয়ে গ্রন্থিত আছে এবং প্রতিটি মানুষ ভেতর থেকে ঠিক সেই কাজটি করার জন্যই তাড়না অনুভব করে ।
.
১৩. গতকাল আমি চতুর ছিলাম। তাই, আমি পৃথিবীটাকে বদলে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আজ আমি জ্ঞানী। তাই, নিজেকে বদলে ফেলতে চাই।
.
১৪. তুমি সাগরে এক বিন্দু পানি নও। তুমি এক বিন্দু পানিতে গোটা এক সাগর।
.
১৫. আমাকে দেখতে অস্থির মনে হতে পারে, কিন্তু আমার গভীরে আমি শান্ত ও স্থির। গাছের শাখারা দুলতে থাকে কিন্তু তার শেকড় থাকে দৃঢ়।
.
১৬. তুমি যদি প্রকৃত ভারসাম্য অর্জন করতে না পারো তাহলে যে কেউ তোমাকে প্রতারিত করতে পারবে।
.
১৭. এই পথটা তোমার, তুমি পথ চলো একা,
তোমার চলার পথে হয়ত কেউ সঙ্গী হবে,
কিন্তু তোমার পথটা অন্য কেউ হেঁটে দিবে না।
.
১৮. আলোকিত মানবেরা অপেক্ষা করে শেষ দিবসের
কিন্তু পাপীর কাছে যে তা দিবস অপমানের।
নেই যে তার সূর্যালোকিত চেহারা,
সে তাই কেবলই করে আঁধারের প্রত্যাশা।
এত কাঁটার পর যদি না ফোটে কলি গোলাপের,
বসন্ত তার শত্রুই হবে, করে উন্মোচন নেকাবের।
কিন্তু আপাদমস্তক গোলাপ কিংবা পদ্ম যে মানুষ
বসন্ত তার জীবনে আনন্দ বয়ে আনুক!
.
১৯. মন খারাপ কোরো না! কারণ চরম নিরুপায় মুহুর্তেই খোদা আশার বাণী দেন। ভুলে যেও না যে, সবচে’ অন্ধকার মেঘ থেকেই সবচে’ ভারী বৃষ্টিটা আসে।
.
২০. বিপদ-সংকূল এই পথে ভালোবাসাই আমাদের পথপ্রদর্শক।
.
২১. যে কখনো বাড়ি ছাড়েনি, তার কাছ থেকে যাত্রার উপদেশ নিও না।
.
২২. এতদূর তোমাকে নিয়ে এসেছেন যিনি, অারও সামনে নিয়ে যাবেন তিনিই।
.
২৩. কড়া নাড়ো, তিনি তোমায় দরজা খুলে দেবেন।
বিলীন হয়ে যাও, তিনি তোমায় সূর্যের মত উজ্জল করবেন।
লুটিয়ে পড়ো, তিনি তোমায় বেহেশতে তুলে নেবেন।
নিজেকে রিক্ত করো, তিনি তোমায় সবকিছু দিয়ে পূর্ণ করবেন।
.
২৪. যখনই আবার দুঃখ আসবে
তাকে হাসির সাথেই বরণ করো।
বলো, “হে আমার সৃষ্টিকর্তা! আমাকে এর ক্ষতি থেকে বাঁচাও; তবে আমাকে এটার ভালো থেকে বঞ্চিত কোরো না”
প্রভু! আমাকে কৃতজ্ঞ হবার কথা মনে করিয়ে দিও!
যদি এর উপকার পাশ কাটিয়ে চলেও যায়, আমি যেন কোন অনুতাপ না করি।
.
২৫. প্রার্থনা কুয়াশা দূর করে অন্তরের শান্তি ফিরিয়ে আনে।
প্রতিটি সকাল আর সন্ধ্যায় হৃদয় দিয়ে গেয়ে ওঠো:
হে খোদা! তুমি ছাড়া কেউ নেই।
.
২৬. তোমার ভিতরে নমরুদের আগুন আছে,
কিন্তু ইব্রাহীম না হয়ে তাতে প্রবেশ কোরো না।
.
২৭. যেদিন আমি মরে যাব, আমার কফিন এগিয়ে যাবে
সেদিন ভেবো না আমার অন্তর এই ধরাধামে রয়ে গেছে!
তোমরা অযথা অশ্রু বিসর্জন দিও না, হাহুতাশ করো না
‘হায়রে লোকটা চলে গেল’­ এই বলে বিলাপ করো না।
আমার সমাধিকে অশ্রুজলে কর্দমাক্ত করে দিও না।
আমিতো মহামিলনের মহাযাত্রার অভিযাত্রী।
আমায় কবরে শোয়ালে ‘বিদায়’ জানাবে না,
কবরতো ইহকাল-পরকালের মাঝে একটা পর্দা মাত্র­
অনন্ত আশীর্বাদের ফোয়ারা।
তোমরা অবতরণ দেখেছ­ এবার চেয়ে দেখ আমার আরোহণ।
চন্দ্র-সূর্যের অস্তাগমন কি বিপজ্জনক?
তোমাদের কাছে যেটা অস্তাগমন, আসলে সেটাই উদয়ন।
.
২৮. আমার হৃদয়ের আকার তো ক্ষুদ্র, এতটাই ছোট যে তা প্রায় দেখাই যায় না। এত বিশাল পরিমাণ দুঃখ-বেদনা আমি কীভাবে ধারণ করবো এতে?
তিনি উত্তর দিলেন, “খেয়াল করে দেখো, তোমার চোখটাও তো অনেক ক্ষুদ্র। কিন্তু এই চোখে তো তুমি গোটা বিশ্বজগতকেই ধারণ করো।”
.
২৯. আমি বললাম: আমার চোখ দুটোর কী হবে?
তিনি বললেন: পথের উপর তাদের স্থির রাখো।
আমি বললাম: আমার কামনার কী হবে?
তিনি বললেন: ওদের পুড়তে দাও।
আমি বললাম: আমার হৃদয়ের ব্যাপারে বলুন?
তিনি বললেন: এর মাঝে কী আছে তা আমাকে বলো।
আমি বললাম: কষ্ট আর ব্যথা।
তিনি বললেন: এগুলো থাকুক তোমার হৃদয়েই।
ক্ষতগুলো তো এমনই স্থান যার ভেতর দিয়ে তোমার মাঝে আলো প্রবেশ করে।
.
৩০. মুহাম্মদের আলো কোন অগ্নিপুজারি বা ইহুদিকে পরিত্যাগ করে না। তাঁর সৌভাগ্যের ছায়া যেন সবার উপর উজ্জ্বল হয়! তিনি সুপথে নিয়ে আসেন যারা পথভ্রষ্ট হয়েছিল মরুভূমিতে।
.
৩১. সুফী হচ্ছে মোহাম্মদকে আবু বকর এর মত আকড়ে ধরা।
.
৩২. এই হচ্ছে মসনবী বই, এবং এটি (ইসলাম)ধর্মের মূলের মূলের মূল এবং এটি কোরআনের বর্ণনাকারী।.

Comments

comments

Related Post